পটুয়াখালী কিভাবে পটুয়াখালী জেলায় রূপান্তর হয়েছে
পটুয়াখালী কিভাবে পটুয়াখালী জেলায় রূপান্তর হয়েছে
১৬ শতকের প্রারম্ভে আজকের পটুয়াখালী অঞ্চল পর্তুগিজ জলদস্যুদের ডাকাতির অন্যতম এলাকা ছিল।
আধুনিক পটুয়াখালী শহরের বয়স প্রায় দেড়শ বছর। ১৮০৭ সালে বরিশালের জজ-ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে আসেন মি. বেটি। দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন কেটে বসত বৃদ্ধি পাওয়ায় বেটির শাসন আমলেই ১৮১২ সালে পটুয়াখালীকে নিয়ে গঠন করা হয় মির্জাগঞ্জ থানা।
পরবর্তীতে দেওয়ানী শাসন প্রসারের জন্য ১৮১৭ সালে বরিশালে স্থাপন করা হয় পৃথক ৪টি মুন্সেফী চৌকি। এগুলো হলো বাউফল, কাউখালী, মেহেন্দিগঞ্জ ও কোটের হাট চৌকি। বাউফল চৌকির প্রথম মুন্সেফ হয়ে আসেন ব্রজমোহন দত্ত। ১৮৬০ সালের ১ জুন বাউফল থেকে চৌকি স্থানান্তর করা হয় লাউকাঠীতে।
ব্রজ মোহন দত্ত লাউকাঠী চৌকিরও মুন্সেফ ছিলেন। ব্রজ মোহন দত্ত প্রস্তাব করেন পটুয়াখালী নতুন মহকুমা প্রতিষ্ঠার। ২৭ মার্চ ১৮৬৭ তারিখে কলিকাতা গেজেটের মাধ্যমে বাকেরগঞ্জ জেলার মহকুমা হিসেবে পটুয়াখালী মহকুমা সৃষ্টির ঘোষণা প্রকাশিত হয়। ১৮৭১ সালে পটুয়াখালী মহকুমায় রূপান্তরিত হয়। ১৯৬৯ সালে পটুয়াখালী মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়।
১ জানুয়ারি ১৯৬৯ সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ১৮তম জেলা হিসেবে পটুয়াখালী জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৯ সালের ৯ মার্চ পটুয়াখালী জেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস এডমিরাল এস. এম. আহসান। পটুয়াখালীর প্রথম জেলা প্রশাসক ছিলেন হাবিবুল ইসলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ বরগুনা মহকুমাকে পটুয়াখালী জেলা থেকে পৃথক করে জেলায় উন্নীত করা হয়।
পাকিস্তান আমল থেকেই বৃহত্তর বরিশাল ও পটুয়াখালী ছিল খুলনা বিভাগের অন্তর্গত; পরবর্তীকালে সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের সূত্রে ১৯৯৩ সালে ১ জানুয়ারি বৃহত্তর বরিশাল ও পটুয়াখালীর ছয়টি জেলা বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলা নিয়ে বাংলাদেশের পঞ্চম বিভাগ বরিশাল গঠিত হয়।

কোন মন্তব্য নেই